
আমি ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আছি, ভাবছি – সে আসলে কি চায় ?
একজন Front-End Developer, একটি ছোট ফার্মে কাজ করে।
স্যালারি তুলনামূলক কম – কাজেই সে একটি স্ট্রাকচার্ড, নন-টেকনিক্যাল অর্গানাইজেশনে ইন্টারভিউ দিতে এসেছে।
ইন্টারভিউতে আমি তাকে মাইক্রো-লেভেল প্রশ্ন করছিলাম – “আপনি কোন প্ল্যাটফর্মে কাজ করেন ?”
সে তিনটি পেইড প্রফেশনাল প্লাটফর্মের নাম বলল – এমন প্ল্যাটফর্ম যেগুলোতে ম্যাসিভ এক্সিকিউশন টাইম লাগে, কিন্তু প্রতিটিই প্রিমিয়াম টায়ার টুল |
আমি দ্রুত মনে মনে হিসাব করলাম।
এই তিনটা প্ল্যাটফর্ম যদি কেউ দৈনিক ৬ ঘণ্টা একটিভ্লি ব্যবহার করে, তাহলে মাসিক গড়ে কমপক্ষে ১৮,০০০ টাকা খরচ পড়ে।
অর্থাৎ, সে যে স্যালারি পাচ্ছে – তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৮,০০০ টাকার হিডেন ভ্যালু | সাথে আছে কাটিং এজ টেক এক্সপোজার, রিয়েল টাইম প্রজেক্ট এক্সপেরিয়েন্স আর কনস্ট্যান্ট পিয়ার মেন্টরিং | অর্থাৎ, সে শুধু টাকা নয়, লার্নিং ক্যাপিটালও অর্জন করছে।
অন্যদিকে, আমাদের যে নন-টেক পদে সে আবেদন করেছে, সেখানে স্যালারি বাড়ছে মাত্র ১০,০০০ টাকা | কিন্তু সে হারাচ্ছে হ্যান্ডস অন এক্সপেরিয়েন্স আর গ্রোথ ট্র্যাজেক্টরি |
আমি ভাবছি – এই ছেলেটি সত্যিই কি ইঞ্জিনিয়ারিং শিখেছে ? ভালো ইঞ্জিনিয়ার হওয়া মানে শুধু কোড জানা নয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ভালো ম্যাথ শেখায়, লজিক্যাল এস্টিমেশন শেখায় – আর তার চেয়েও বেশি শেখায় কমন সেন্স |
বেশিরভাগ প্রসেস ড্রিভেন ইনস্টিটিউশন শুরুতে ভালো বেতন দেয়, কিন্তু এগুলোর প্রকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা | এগুলো মানুষ আর প্রক্রিয়ার উপর ভর করে বেড়ে ওঠা সংগঠন, যেখানে ক্রিয়েটিভ অটোনমি বা ফাস্ট লার্নিং কার্ভ এর দেখা পাওয়া মুশকিল।
আমি ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আছি, ভাবছি – সে আসলে কি চায় ?
আর আমিই বা তাকে কি বলবো ?


