
আল্লাহ আমাদেরও এমন অন্তর্দৃষ্টি ও বোঝার শক্তি দিন
ভালো একটা দিন কেটেছে।
দীর্ঘ সময়ের সঙ্গী এক প্রিয় সহকর্মীর সাথে কথা হচ্ছিলো। সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছিলাম, নিজেদের জানার পরিমণ্ডলের বাইরেও এখনও কোনো “অচেনা পাথর” উল্টানো বাকি আছে কিনা, সেটাই ভাবছিলাম।
দুজন পেশাদার যখন খোলা মনে সামনাসামনি বসে, তখন আসলে অনেক রকমের cognitive exchange হয় – আমাদের মস্তিষ্কে তখন নিউরনগুলো দ্রুত নতুন সংযোগ তৈরি করে (বিজ্ঞানীরা এটাকে নিউরোপ্লাস্টিসিটি বলেন), যার ফলে অনেক পুরনো ধারণার ভিতর থেকেও নতুন আলোর রেখা ফুটে ওঠে।
গল্পের শেষে আমার সহকর্মী হঠাৎ এক অপ্রত্যাশিত প্রসঙ্গ টেনে আনলেন, যা আলোচনার মূল স্রোতের বাইরে হলেও চিন্তার নতুন রাস্তা খুলে দিলো।
তিনি বললেন –
“মা আয়েশা (রা:) অতি অল্প বয়সে রাসূলের (সঃ) স্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন, তার একটি কারণ (আল্লাহই ভালো জানেন) হয়তো এই – আল্লাহর নবীর হাদিসগুলোর এক নির্ভরযোগ্য উৎস যেন তিনি হয়ে উঠতে পারেন।”
আমি কথাগুলো নেড়েচেড়ে দেখলাম | আসলেও হয়তো তাই | নবীকে এত কাছ থেকে, এত দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করার, অনুভব করার, আত্মস্থ করার সুযোগ তাঁর ছাড়া আর কারো হয়নি। অল্প বয়স, তীক্ষ্ণধী মস্তিষ্ক, আর একাগ্র শেখার মানসিকতা – এই তিনটি গুণ তাঁকে করেছে হাদিস সংরক্ষণের এক জীবন্ত বিদ্যালয়।
এই কথার ভিতরে গভীর যুক্তি আছে। আধুনিক বিজ্ঞান বলে, তরুণ মস্তিষ্ক শেখার জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য অবস্থায় থাকে, সিন্যাপসগুলো তখন তীব্র গতিতে শক্তিশালী হয়, স্মৃতি ও অর্থবোধ দুটোই গভীরভাবে গেঁথে যায়।
মা আয়েশা (রা:)-এর জীবনে হয়তো সেই প্রজ্ঞা ও সময়ের সমন্বয়ই ঘটেছিল, যাতে তিনি এক মহান ঐতিহ্যের living repository হতে পারেন।
আল্লাহ আমাদেরও এমন অন্তর্দৃষ্টি ও বোঝার শক্তি দিন। আমীন |


