
এটা তাদের নয়, আপনার পরীক্ষা
ঢাকাতে তখন নতুন এসেছি, ক্যারিয়ার মাত্র শুরু |
উত্তর বাড্ডা | দুই কলিগ মিলে দুপুরে এক হোটেলে খেতে গেছি |
ওয়েটার লম্বা মেনু থেকে অনেকগুলো আইটেম পাখিপড়ার মত বলে যাচ্ছে | আমরা শুনেও শুনছি না |
ভাতের আইটেমের চড়া মূল্যের বিপরীতে আমাদের মানিব্যাগ আসলে অনেক রুগ্ন ছিল | আমরা তাই রুটি – ভাজি খেতে মনস্থ করে রেখেছিলাম |
ওয়েটার অর্ডার নিলো, কিন্তু তার চোখ কিছুটা সরু হয়ে এসেছে | পরের ২ দিনও এরকমই গেলো |
চতুর্থ দিন | আমরা হোটেলে ঢুকেই বুঝলাম, ওয়েটাররা চোরাচোখে পরস্পরের দিকে তাকাচ্ছে | কারও ঠোঁটের কোনে মুচকি হাসি | বড় অস্বস্তি লাগছিলো, ওয়েটার যখন অস্বাভাবিক জোরে শব্দ করে খাবার প্লেট টেবিলে রাখছে, তখন বুকের মধ্যে যেন কেমন যেন করে উঠলো |
আমার বাবা মসজিদ থেকে ফেরার পথে দরিদ্র মানুষকে সাথে করে ফিরতেন, লম্বা ডাইনিং টেবিলের মাথার চেয়ারটাতে মানুষটাকে বসাতেন, আর নিজে পাশে দাঁড়িয়ে থেকে খাওয়াতেন |
মাছের সবচেয়ে বড় টুকরোটা, মুরগির রানটা, সবচেয়ে সুস্বাদু কলিজাগুলো তাকে খাওয়ানোর জন্য বাবা অস্থির থাকতেন | পাঁচ ছয় পদের নিচে কখনও আমাদের ডাইনিং সাজেনি, বাবাকে কখনো কার্পণ্য করতে দেখিনি |
আর আজ ?
ওই চতুর্থ দিন পর্যন্তই আমরা ওই হোটেলে খেয়েছি – ওই রুটি ভাজিই | তারপরে অন্য পথ দেখেছি | ঐসব দিন পরম করুনাময় আল্লাহ পার করেছেন |
আজ যে কোনো তারকার হোটেলে যে কোনও মেনুই আমি এফোর্ড করতে পারি – মালিকের দয়া, আমার স্ত্রী – ছেলে বিশ্বাসই করবে না, আমার এমন দিন গেছে |
অথচ মাঝে মাঝে খেতে বসে, অবজ্ঞাভরে সেই খাবার থালা টেবিলে রাখার কর্কশ সশব্দ স্মৃতি ফিরে এসে কানে বাড়ি মারে | সব মনে পড়ে যায় | কখন যে চোখের কোনা আপনা থেকেই ভিজে যায় | আমার ছেলে বলতে থাকে – কি হলো বাবা | আমি বলি, কিছু না |
আসলে অনেক কিছু |
যারা হোটেল ব্যবসা করেন, মানুষকে খাওয়ান | খেয়াল রেখেন, যারা আপনাদের কাছে খেতে আসে, তারা আল্লাহর বান্দা | আল্লাহই তাদেরকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন বিভিন্ন ক্যাপাসিটি দিয়ে সাজিয়ে, এটা তাদের নয়, আপনার পরীক্ষা |
আল্লাহু আকবার |


