
আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য করুন, লার্নিং একটা প্রফেসি ওয়ার্ক, এই পথে যেন ভ্রান্তি না আসে
চারপাশে খালি বাজ ওয়ার্ড |
ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স – এম্প্যাথি – সিনার্জি – গ্রোথ হ্যাকিং – একশনেবল – ডিপ ডাইভ – থিঙ্ক আউটসাইড দা বক্স – থট্ লীডারশিপ – আরো কত |
আমি আপনি সবাই বলি – বলতে ভালো লাগে, সম্ভবত শুনতেও |
ওই যে কি বলে না – সাউন্ডস গুড |
এইসব কারবার কিন্তু নতুন কিছু না – সৃষ্টির আদি থেকেই আছে |
মার্কেটিং এপ্রোচে এইসব শব্দ শুধু নাম বদলায় |
ব্রিটিশ আমেরিকান একসেন্ট এ জ্ঞানী লোকেরা যখন স্টেজ কাঁপিয়ে দেয়, আপনি ভাবেন – খোদ জ্ঞানের সমুদ্র আপনার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে |
ভাইজান, জ্ঞান ব্যবসায়ীদের একটা বড় অংশ ব্যক্তিগত লাইফে বেড়া ছেঁড়া লাগিয়ে বসে আছে |
যিনি ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের ধোঁয়া দিয়ে রুম ভরিয়ে ফেলছেন, গিয়ে দেখেন – নিজের সন্তানের ইমোশনই তিনি বোঝেন না |
লিডারশীপ – লিডারশীপ বলে যিনি ফাটিয়ে দিচ্ছেন, তার নিজের টিমের লোকজন তার অত্যাচারে হয়তো পাগল হয়ে আছে |
থিঙ্ক আউটসাইড দা বক্স বলে যিনি ম্যাজিক দেখাচ্ছেন, তিনি নিজেই হয়তো কোনো বোকা বাক্সে বন্দী হয়ে আছেন |
কাউকে ছোট করার জন্য বলছি না |
বাজ ওয়ার্ড আমরা সবাই বলি | আমিও বলি, লিখি | কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে পরের ধাপে সারল্য প্রকাশ করি কিনা, নিজের অক্ষমতার গল্প বলে হেসে ফেলতে পারি কিনা |
অডিয়েন্সের ভীড়ে বহু মানুষ দেখবেন, যারা ব্যক্তি জীবনে স্টেজে দন্ডায়মান বক্তার চেয়ে অনেক বেশি পরিপূর্ণ |
ভাই, আপনার পরিবার আছে, জীবনসঙ্গীর সাথে মানিয়ে চলছেন, ঠিক টাইমে সন্তান নিয়েছেন, তাকে ঠিকঠাক মানুষ করেছেন, তাদের সংসার তৈরী হয়ে গেছে, নাতি নাতনির মুখ দেখেছেন বা দেখবেন – এসবের মানে আপনি অলরেডি ইমোশনালি ইন্টেলিজেন্ট মানুষ, ভালো একজন লীডার, এম্প্যাথি বা সিনার্জি তো জীবনে হাজারবার আপনি এক্সিকিউট করেছেন | গ্রোথ হ্যাকিং তো আপনার নিত্য দিনের খেলা |
আর বলছেন ‘থিঙ্ক আউটসাইড দা বক্স’ এর কথা – সীমিত আর্নিংয়ে একক চেষ্টায় এতো কিছু করেছেন জীবনে – বাক্সের বাইরে চিন্তার ক্ষমতা না থাকলে কি সেটা পারতেন ?
ব্রাদার, সিস্টার, ট্রেনিং করবেন, বক্তাদের কথা শুনবেন | কোথা থেকে কি জ্ঞান পাওয়া যায়, আল্লাহই ভালো জানেন |
কিন্তু বক্তার মাঝে, ট্রেনারের মাঝে সব সময় যেটা খুঁজবেন – আপনার প্রয়োজনের জায়গা সম্পর্কে তার জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা আছে কিনা |
সাথে বোঝার চেষ্টা করবেন – তার অন্তর্দৃষ্টি আছে কিনা |
আর সবচেয়ে বেশি যেটা খুঁজবেন, সেটা হচ্ছে – তিনি আপনার হিতৈষী কিনা, আপনার সামর্থ্য আর সীমাবদ্ধতার মাঝের ব্রীজটা তৈরী করতে তিনি প্রাণপাত করছেন কিনা |
তৃতীয়টা সত্য হলে, প্রথম দুটো নিয়েই আপনাকে আর ভাবতে হবে না | তার দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি নিজেকে আপনার জন্য উপকারী প্রমাণ করবেন |
আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য করুন, লার্নিং একটা প্রফেসি ওয়ার্ক, এই পথে যেন ভ্রান্তি না আসে |


