আপনি একজন সী -ম্যান, জাহাজ নয়- সমুদ্রটাই আসলে আপনার
জবের স্যালারি কেমন, ছুটির খাতায় ফ্লেক্সিবিলিটি কত, ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স কোম্প্যানি কতটা মেইনটেইন করে, পোস্টিং কমফোর্টেবল কিনা – এগুলো ফ্যাক্টর গুরুত্বপূর্ণ | কিন্তু তার চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে – কাজ শেখার সুযোগ পাচ্ছেন কিনা – সেটা মেন্টর বা লজিস্টিক বা সিচুয়েশনাল এক্সপেরিয়েন্স – যেটাই হোক না কেন |
ধরুন, কোম্প্যানি আপনাকে ৫ জনের একটা বিচ্ছিরি টিম দিয়েছে লীড করার জন্য, বা দিনে ১৪ ঘন্টা খাটাচ্ছে নতুন কোন প্রজেক্ট ডিপ্লয় করার জন্য, অথবা অথবা ঘন্টার পর ঘন্টা আপনাকে মাঠে ঘোরাচ্ছে – অসুবিধা নেই | আপনি আসলে কাজের মধ্যেই শিখছেন, কোম্প্যানি এটার মূল্য দিক বা না দিক, ইউনিভার্সাল একাউন্টিং একসময় মিলে যাবে – আপনি এই কঠিন প্রস্তুতির বিপরীতে আপনার নতুন চলার পথ পেয়ে যাবেন |
নবীন একটা ছেলে বা মেয়ে যে স্বপ্ন নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে ৯০-৯৫ (মোটা দাগে) শতাংশ ক্ষেত্রে সেটা পূরণ হয়না – হবে না | এখানে কারও দোষ নেই | একটা কোম্পানি, একটা ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘ মেয়াদে ভ্যালু বেজড যে মিশন থাকার কথা – সেটা আসলে ক’টার আছে ? সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান জানে না যে সে আসলে কত বছর বাঁচবে ? হয়তো সে চিন্তাও করতে চায় না | চিন্তাতে হয়তো অস্থিরতা আসে – আশংকা জাগে, কাজেই ওই পথে সে হাঁটে না | আর প্যানিক না করাটাও একটা বড় রকমের ম্যাচুরিটি |
যে জাহাজে আপনি সমুদ্র যাত্রায় যাচ্ছেন, তার এনালাইসিস আপনি হয়তো ভালোই করেছেন, ওয়েদার ফোরকাস্টিংও কালেক্ট করেছেন – কিন্তু ওতে আসলে কাজ হয়না | এগুলো খুবই স্বল্প মেয়াদী বুদ্ধিমত্তা – সাগরের পরিবেশ যে কোনও সময় বিরূপ হতে পারে, আর শত্রু বা প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিবন্ধকতা জাহাজের ভেতর বা বাহির দু’জায়গাতেই বিনা নোটিশে হাজিরা দিতে পারে | এগুলো ভাববেনই না |
মূল ব্যাপারটা হচ্ছে, আপনি কতটা প্রস্তুত | সাঁতার শিখেছেন কিনা, আড়াল নিতে জানেন কিনা, আবার সময়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে পারেন কিনা – আসল কথা হচ্ছে – আপনি একজন সী -ম্যান কিনা | জাহাজ আপনার – ওটা আপনাকে বাঁচাতে হবে – সেটা লয়ালিটি |
আর যদি সেটা সম্ভব না হয় বা আপনাকেই যদি সেটা থেকে নেমে যেতে হয় – তাহলে ?
তাহলে আসলে কোনো সমস্যা নেই – আপনি একজন সী -ম্যান, জাহাজ নয়- সমুদ্রটাই আসলে আপনার |



