
এই ব্যাপারটা আমার সাথে ঘটেছে, এবং আমি নিশ্চিত -আপনার সাথেও এটা ঘটেছে
এই ব্যাপারটা আমার সাথে ঘটেছে, এবং আমি নিশ্চিত -আপনার সাথেও এটা ঘটেছে |
স্কুলে বা কলেজে পড়ছিলেন – কেউ আপনাকে জিজ্ঞেস করেছে, আপনি কোন স্কুলে বা কলেজে পড়েন বা আরও নির্দিষ্টভাবে – কোন ক্লাসে/ ইয়ারে পড়েন, সাইন্স, আর্টস নাকি কমার্সে পড়েন | ইউনিভার্সিটিতেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি |
মুশকিল হচ্ছে – জব লাইফে এসেও একই ঘটনা ঘটছে | আপনাকে আপনার পরিচয় জিজ্ঞেস করা হচ্ছে – আপনি কোথায় জব করেন, কোথায় পোস্টেড্ আছেন | আসলে আপনার আর আমার কোনো স্বতন্ত্র আইডেন্টিটি নেই – আমরা জড়িয়ে আছি অপেক্ষাকৃত বড় কোনো এনটিটির সাথে এবং তার পরিচয়েই আমার-আপনার পরিচয় |
এটাতে ক্ষতি নেই – কিন্তু এখানে ডিগ্রি অফ ডিপেন্ডেন্সি মারাত্মক | আপনার হাতে কিছুই নেই, যে কোনও মুহূর্তে আপনি ইয়াতীম হতে পারেন বা আইডেন্টিটি হারিয়ে ফেলতে পারেন | কাল সকালে কোম্পানি বলে বসতে পারে – “আজ সে হামারে বিচ কোই রিশতা নেহি!” (আজ থেকে আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই!) |
আপনি যে জব হারানোর ভয়ে সারাক্ষণ আতংকিত থাকেন – তার পেছনে আছে এই ডিগ্রি অফ ডিপেন্ডেন্সির খেলা |
বলছেন – আপনি লীডার – কিন্তু আপনার টিম আপনার কোম্প্যানীর দেয়া | বলছেন আপনি ভালো সেলসম্যান – কিন্তু প্রোডাক্ট-প্রসেস – লজিস্টিকস – সবই আপনার কোম্প্যানীর দেয়া | বলছেন আপনি প্রব্লেম সল্ভার – মজার ব্যাপার হলো – সেই প্রব্লেম সলভিং ম্যাপ ও আপনার কোম্প্যানীর তৈরী করা |
আপনি এবং আমি – কোম্প্যানিকে বাদ দিয়ে নিজেদেরকে কখনো কল্পনাও করিনি, সম্ভবত সে চেষ্টাও করিনি | আমরা একটা চাকরিকে ধরে রিটায়ারমেন্ট এর মাইলস্টোন ছুঁতে চেয়েছি | এই গল্প আসলে শেষ হয়েছে | এটা এখন আর সম্ভব নয় – এখানে আপনি বা কোম্প্যানি – কেউ দায়ী নয় | আপনি কোম্প্যানীর উপর অভিমান করতে পারেন – ওটা কাজের কথা না | আপনি যেমন কোম্পানিকে এতদিন সার্ভ করেছেন – কোম্প্যানিও আপনাকে পেলে-পুষে রেখেছে, কাজ শিখিয়েছে, তৈরী হবার সময় দিয়েছে | কৃতজ্ঞ থাকুন – কিন্তু ভয় পেয়েন না | সময়ের প্রয়োজনে স্নাইপারের গান ব্যারেল ঘুরতেই পারে – এখানে কাউকে দোষারোপ করার প্রশ্নই আসে না | পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট বলছে – ঘোড়া যত দ্রুতই দৌড়াক, স্নাইপারের বুলেট তাকে স্পর্শ করবে | তাহলে উপায় কি ?
উপায় আছে, উপায় সব সময় থাকে |
আমি দুটো বাজওয়ার্ড বলছি – মাথায় গেঁথে রাখুন – গিগ ইকোনোমি এবং পোর্টফোলিও ক্যারিয়ার | দুটোই সোনার হরিণ – জিগজ্যাগ দৌড়ে অভ্যস্ত – স্নাইপারের বুলেট সহজে এদের নাগাল পায় না | এক্সপেরিয়েন্সড মানুষের জন্য এই পথ দারুণ |
যদি ডিগ্রি অফ ডিপেন্ডেন্সি কমাতে চান – তাহলে এর যে কোনটিই হতে পারে আপনার ব্রম্মাস্ত্র |
সময় পেলে সামনে আরো লিখবো, সঙ্গে থাকুন |


