
শিক্ষায় গ্যাসলাইটিং: মিথ্যা বর্ণনার শিকার না হওয়ার যুদ্ধ
কিন্তু অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন হলো: আমরা কি নিজেরাই নিজেদের গ্যাসলাইট করছি? সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে আমরা কি শুধুই প্রতিধ্বনি শুনছি, নাকি সত্য যাচাই করছি?
ভাবুন তো: আপনি একটি অন্ধকার ঘরে আছেন, আর কেউ ধীরে ধীরে আলো কমিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু আপনাকে বোঝাচ্ছে যে আলো এখনো যথেষ্ট। এটিই গ্যাসলাইটিং। আর এই কৌশলটি শিক্ষায় ঘটলে কী হয়? যেখানে ধারণাগুলো বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং তা সত্য হিসেবে গ্রহণ করানো হয়।
মনোবিজ্ঞানে, গ্যাসলাইটিং এমন এক মানসিক কৌশল যা কাউকে নিজের বাস্তবতা নিয়ে সন্দিহান করে তোলে। এটি শ্রেণীকক্ষে, কথোপকথনে, এমনকি টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মেও ঘটে, যেখানে গল্পের আড়ালে আমাদের ভাবনার জগত পরিবর্তিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্ক বারবার শোনা কথায় বিশ্বাসী হয়ে ওঠে—মিথ্যা হলেও। ইতিহাসও আমাদের সতর্ক করে। যুদ্ধের সময় প্রচারণা প্রজন্মের মন গড়ে তুলেছিল সত্যের আড়ালে মিথ্যার জাল বুনে।
ইসলামী জ্ঞান আমাদের স্বচ্ছতা শেখায়। কোরআনে বলা হয়েছে: “যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার পেছনে ছুটো না” (১৭:৩৬)। সত্যের সন্ধান ইবাদতের সমান, এটি প্রতারণার বিরুদ্ধে ঢাল।
কিন্তু অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন হলো: আমরা কি নিজেরাই নিজেদের গ্যাসলাইট করছি? সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে আমরা কি শুধুই প্রতিধ্বনি শুনছি, নাকি সত্য যাচাই করছি?
জেনারেশন জেড, যাদের মাঝে প্রামাণিকতার তৃষ্ণা প্রবল, তারাই এই চক্র ভাঙতে পারে। আলোর ক্ষীণতা চেনার চেষ্টা করো। কঠিন প্রশ্ন করো। উদ্দেশ্যমূলকভাবে জ্ঞান অনুসন্ধান করো। অর্ধসত্যের এই পৃথিবীতে, আসল সত্যের প্রদীপ তোমরাই ধরবে।
Tag:Course

